হোম নারী-শিশু চা শ্রমিকদের ৪৫ শতাংশ শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে

চা শ্রমিকদের ৪৫ শতাংশ শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে

92
0

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : দেশের চা শিল্পের বিকাশে এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাহিদা মেটাতে চা বাগানসমূহের চা শিল্পে নিয়োজিত চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০২ টাকা করেন বাগান মালিক কর্তৃপক্ষ।

বৈশ্বিক মাল্টিপল ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের (এমআইসিএস) অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অংশের অপুষ্টির শিকার শিশুদের নিয়ে জরিপ চলতি বছর সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ( বিবিএস)। এতে
কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী খর্বকায় শিশুর হার ২৮ শতাংশ। এতে সিলেট বিভাগের চা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রথমবারের মতো আলাদা জরিপ করা হয় ২০১৮ সালের দিকে। ইউনিসেফের সহযোগিতায় বিবিএস পরিচালিত এ জরিপের ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সিলেট বিভাগের চা বাগানের

শিশুদের অপুষ্টির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের ফল বলছে, চা বাগানের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ খর্বকায় ও অপুষ্টির শিকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প মজুরি, কঠোর পরিশ্রম ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার অভাব ও মাতৃত্বকালীন সেবার অপ্রতুলতায় পুষ্টিহীনতায় ভুগছে চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। খর্বাকৃতি ও শীর্ণকায় হয়ে বেড়ে উঠছে শিশুরা। ইউনিসেফের পুষ্টিবিষয়ক কার্যক্রমের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. নিম্মি হোসাইন বলেন, চা শ্রমিকদের মধ্যে পুষ্টি নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। চা বাগানগুলোতে শিক্ষার হারও তুলনামূলক কম।

এছাড়া বাগানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী না থাকার কারণে বঞ্চিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা থেকে। যার কারণে চা বাগানের শিশুরা মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। সিন্দুর খাঁন চা বাগানের শ্রমিক সবিতা গোয়ালা (৫৫ ) বলেন সপ্তাহ শেষ হইলে ৭০০ – ৮০০ টাকা হাজিরা দেয়, এই টেকা নিয়া বাজারে গেলে চাল কিনমু না মাছ কেমনে চলি বাচ্চাগরে কেমনি ভালা কিনিয়া দিমু।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চা শ্রমিক নেতা প্রেম সাগর হাজরার সাথে আলাপকালে তিনি জানান চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি সহ উৎসব ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে, বিগত বছরে বিষয়টি নিয়ে বাগান মালিক পক্ষ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও সরকারি মজুরি কমিশনের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ঢাকাতে। কিন্তু মালিক পক্ষ বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চুক্তি বাস্তবায়নে ধীরগতির পথ অবলম্বন করে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১০২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে কিন্তু বর্তমান ক্রমবর্ধমান বাজার ব্যবস্থায় এই স্বল্প মজুরি যেমন বিপর্যন্ত করছে চা শ্রমিকদের জীবনমান তেমনি কাজের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন চা শ্রমিক জনগোষ্ঠি। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা জানান অধিকাংশ চা শ্রমিক সন্তানেরা মাতৃগর্ভ হতেই অপুষ্টির শিকার। সন্তান জন্মদানে একজন মায়ের যে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন সেটি চা শ্রমিকের মায়েরা পাচ্ছেন না সাথে এখানকার পুরুষরাও অপুষ্টির শিকার হয়ে থাকেন যার কারণ বর্তমান বাজার মূল্যে ১০২ টাকা বেতনে কিভাবে একটি সংসার চালানো সম্ভব বা পুষ্টিকর খাবার কিনা সম্ভব। সরকার ২০১৯ সালে বাংলাদেশ চা শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি পদক্ষেপ নেয় তাহলে বাগানের এই মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভবকারণ আন্দোলন সংগ্রাম করেও বাগান মালিক কর্তৃপক্ষের শক্ত অবস্থানের কারণে আলোর মুখ দেখছে না ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি।

সিলেট বিভাগের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ হরিপদ রায় বলেন, চা শ্রমিকরা ডে লেবার হিসাবে কাজ করে কিন্তু সন্তান জন্মদানে মায়েদের যে স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন সেটি তারা নিয়মিত দিতে পারে না তাই অধিকাংশ শিশু গর্ভকাল হতেই রক্ত স্বপ্লতা ও অপুষ্টির শিকার হয়ে খর্বকায় জন্মগ্রহণ করে যা পরবর্তীকালে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হাড়িয়ে যাচ্ছে।

পিছিয়ে পড়া চা শ্রমিক সম্পর্কে মানবধিকার কর্মী এসকে দাশ সুমন বলেন, চা শ্রমিকরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তাদের শিক্ষা বাসস্থান এবং চিকিৎসা সেবা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অপুষ্টির শিকার হয়ে শিশুরা জন্মগ্রহণ করে যার কারণে তাদের কর্মদক্ষতা লোপ পায় সরকার এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলে শ্রমিকরা উপকৃত হবে বলে জানান।

রিপ্লাই করুণ

Please enter your comment!
Please enter your name here