হোম News Scroll চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে অকালে না ফেরার দেশে রাইফা

চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে অকালে না ফেরার দেশে রাইফা

97
0

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে মেডিকেল মার্ডারের শিকার হয়ে অকালে না ফেরার দেশে চলে গেছে রাইফা। এ কারণে ২৯ ফেব্রুয়ারি রাইফার প্রথম জন্মদিনটা সেভাবে পালন করা হচ্ছে না। ওই মেডিকেল মার্ডারের কারণে ঘটা করে রাইফার জন্মদিন পালন করার স্বপ্নটা আজীবন স্বপ্নই থেকে যাবে রাইফার শোকাহত পরিবারের।

চার বছর পর এসেছে শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি আর এই দিনে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষে সাংবাদিক কন্যা রাফিদা খান রাইফারও প্রথম জন্মদিন! ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিল রাইফা। রাইফার শোকাহত মা রুমানা খানম বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি ওর জন্ম হওয়ায় চার বছর পর এই ২৯ ফেব্রুয়ারি হচ্ছে রাইফার প্রথম জন্মদিন।

একই প্রসঙ্গে রাইফার শোকাহত বাবা সাংবাদিক রুবেল খান বলেন, ‘সামান্য গলা ব্যাথা নিয়ে ২০১৮ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল শিশু রাইফাকে। কিন্তু ওই হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই রাইফাকে ভুল চিকিৎসা দেয়া হয় এবং চিকিৎসায় সীমাহীন অবহেলা করা হয়। আমি বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা আমার শিশু কন্যাকে রফিসিন নামের একটি অ্যান্টিবায়োটিক পুশ করেন। আমার আপত্তির মুখে চিকিৎসকরা বলেন, এই অ্যান্টিবায়োটিক পুশ করা হলে আপনার মেয়ের কোনো ক্ষতি হবে না বরং ওর গলা ব্যাথা দ্রুত ভালো হয়ে যাবে। অথচ ওই অ্যান্টিবায়োটিক পুশ করার পর আমার মেয়ের শরীরের অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে যেতে থাকে। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, ওভারডোজ অ্যান্টিবায়োটিক পুশ করায় আমার মেয়ের রিঅ্যাকশন হয়েছিল। ওই রিঅ্যাকশনের কারণে তার শ্বাস কষ্ট ও খিঁচুনি হয়। খিঁচুনির কারণে আমার মেয়ের যখন মুমূর্ষু অবস্থা, তখন আবারও ভুল চিকিৎসার শিকার হয় সে। তাকে এনআইসিইউতে না নিয়ে কেবিনের ভেতর ওভারডোজ সেডিল পুশ করা হয়। এভাবে বারবার অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে মৃত্যু বরণ করে আমার একমাত্র শিশু কন্যা রাইফা।

এই মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে শিশু রাইফার চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদন্ত কমিটি ওই ম্যাক্স হাসপাতালের ১১টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা যদি সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদন্ত প্রতিবেদন দু’টির সহযোগিতা নেন, তাহলে এই মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত সম্পর্ণ করতে সক্ষম হবেন।’ চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু প্রতিরোধ এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এবং চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের স্বার্থে রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশীট প্রদানের দাবি জানান রাইফার বাবা রুবেল খান।

তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামের বিএমএ নেতারা ও ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত চিকিৎসকদেরকে বাঁচানোর জন্য এখনও নানামুখী অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ক্ষমতা ও টাকার জোরে সবকিছু নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন রাইফার শোকাহত বাবা সাংবাদিক রুবেল খান।

প্রসঙ্গত. ২০১৮ সালের ২৯ জুন মধ্য রাতে চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু কন্যা রাইফা। ওই বছরের ১৮ জুলাই ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নগরীর চকবাজার থানায় এজাহার দায়ের করেন রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান। এজাহার দায়েরের দু’দিন পর এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলায় ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত, ডা. শুভ্র দেব ও বেসরকারি ম্যাক্স হাসাপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খানকে আসামী করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন নগরীর চকবাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

রিপ্লাই করুণ

Please enter your comment!
Please enter your name here