হোম News Scroll বদলে যাওয়া পেশা

বদলে যাওয়া পেশা

33
0

নিউজ ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষ। বাসাবাড়িতে বাড়তি সতর্কতা নিশ্চিত করতে গৃহকর্মী প্রবেশে বাধা, খুব অল্প সময়ের জন্য রেস্টুরেন্ট ও ভাতের হোটেল খোলায় কর্মী ছাঁটাই ও দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় দুই দশকের কাজ ছেড়ে নতুন নতুন পেশায় কাজ শুরু করেছে নিম্নবিত্তের মানুষ। তারা বলছেন, কাজ একটা না একটা করতেই হবে। আজ বেশি আয় হচ্ছে না, কিন্তু কিছু আয়ের ব্যবস্থা তো করতে হবে। পেশা বদলেছেন বটে, কিন্তু এসময় পার হলে আবারও আগের পেশায় ফিরবেন তারা।

সরেজমিনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পণ্য বিক্রেতা, ফুটপাতে ফ্লাক্সের চা বিক্রেতা, ভ্যানে সবজি বিক্রেতা, কাঁচা তালের শাস বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বেশিরভাগ লোক আগে এই পেশায় ছিলেন না। করোনা পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টায় ছোটখাটো কিছু নিয়ে শুরু করেছেন কাজ।

মোমেনা খাতুন, পান্থপথে ফুটপাতে বসেছেন চায়ের কেটলি, কমদামী কয়টা সিগারেটের প্যাকেট, পান ও পানের সরঞ্জাম, আর কিছু বিস্কিট নিয়ে। কথা হয় তার সঙ্গে। অফিসে ঝাড়ু দেওয়া, টয়লেট পরিষ্কারের কাজ করে মাসে আট হাজার টাকা পেতেন। দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে বসিলায় বস্তিঘরে টেনেটুনে চলে যেতো। তবে করোনা আসার পরে সেই অফিস প্রথমে ছুটি দিয়ে দেয়, পরে চাকরি নেই বলে আর না যেতে বলে দেওয়া হয় মোমেনাকে। হাতের বালা বন্ধক দিয়ে শুরু করেছেন এই নতুন কাজ।

সারাদিনে আয় রোজগার কেমন জানতে চাইলে মোমেনা বলেন, ‘হাতে টাকা না থাকার চেয়ে এখন ভালো আছি। এপ্রিল মাস কোনওভাবে চললেও মে মাস যেন পার হইতেছিল না। সেসময় এক-দুইবার চেষ্টা করেছি রাস্তায় বসতে, পুলিশ উঠিয়ে দিয়েছে। এখন ভালো আছি। সব খরচ বাদ দিয়ে, দিনে দুই-তিনশ’ টাকা থাকে।

লালমাটিয়া সি ব্লকে ফুটপাতে বসেছেন জলিল মিয়া। ফ্লাক্সে চা, বিস্কুট, বনরুটি। মূলত রিকশাচালকরাই একটু জিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চা-নাস্তা খান তার কাছে। সঙ্গে রাহেলা ও হাশেম বসে গল্প করছেন। জলিল মিয়া নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। বাসাবাড়ি নির্মাণের কাজ গত তিন মাস বন্ধ। কাজ করলে সংক্রমণ বাড়বে বলে মালিক কাজ শুরু করেননি। তিনজনের আলাপের বিষয়, কীভাবে চলবে জীবন। আর কতদিন কাজহীন থাকতে হবে। বড়লোকেরা যেটুকু সাহায্য-সহযোগিতা করছিলো তাও কমে এসেছে।

রাহেলা বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। এখন আগের সে কাজ নাই। গতমাসে গ্রামে দুই ছেলেমেয়ে রেখে এসেছেন। এখন লালমাটিয়া মোহাম্মদপুর এলাকার চায়ের দোকানে পানি দেওয়ার কাজ করেন। যা পান তা দিয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে চেয়ে-চিন্তে ত্রাণের চাল দিয়ে দিন চলছে। আর হাশেম কাজ করতেন রেস্টুরেন্টে। ৯ জনের মধ্যে তিন জনের কাজ চলে গেছে গত মাসে। অল্প সময়ের জন্য রেস্টুরেন্ট খোলা হলেও এত লোক লাগে না বলে অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের ছাঁটাই করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম মনে করেন, এখন এই শ্রেণির মানুষদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট স্কিম জরুরি। কাজ নেই এটি বাস্তবতা। কিন্তু তাদেরকে যদি কাজের সন্ধান না দেওয়া যায়, ঋণের ব্যবস্থা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে সামনে আরও বড় বিপদের মুখোমুখি হতে হবে। এই বিশাল সংখ্যক কাজহীন মানুষ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবক হিসেবে দাঁড় হবে।

শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার মনে করেন, এত শ্রমজীবী মানুষ কাজ হারাচ্ছে, সবার পক্ষে পেশা বদলে লড়াই চালানো সম্ভব হবে এমন না। তিনি বলেন, যে শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে পেশা বদলাতে হচ্ছে, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। সবার পক্ষে চা বিক্রি শুরু করাও সম্ভব না। এ পরিস্থিতিতে নারী শ্রমিকরা বেশি খারাপ অবস্থায়। তাদের জন্য আলাদা করে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

রিপ্লাই করুণ

Please enter your comment!
Please enter your name here