হোম খুলনা বিভাগ শহরের সার্জিক্যাল ব্যবসায়ী মামুনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক অংশীদারদের সংবাদ সম্মেলন

শহরের সার্জিক্যাল ব্যবসায়ী মামুনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক অংশীদারদের সংবাদ সম্মেলন

10
0

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কক্সবাজার শহরের মামুনুল ইসলাম নামের এক সার্জিক্যাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক অংশীদারদের ২২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা ফেরত চাওয়ায় মিথ্যা মামলা দায়েরসহ নানাভাবে ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। টাকা ফেরত এবং হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওই আট ভুক্তভোগী। আজ বুধবার ২০ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্য্যলয়ে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, খালেদ জাহেদ, নুরুল আবছার, রাশেদুল করিম, হাসিনা আক্তার, আবদুল গফুর, নুরুল হুদা, নুর সার্জিক্যাল ও হাসান মেডিকো থেকে অংশীদার ব্যবসার জন্য ২২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন কক্সবাজার সার্জিক্যালের মালিক মামুনুল ইসলাম। যাহা নোটারি পাবলিক এবং চেকের মাধ্যমে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আট জনের পক্ষে মোঃ নুরুল হুদা উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেন আমরা সাত জন মিলে বিগত ২০ আগষ্ট ২০১৭ইং তারিখে ১২৬নং নোটারীমূলে একটি যৌথ ব্যবসার চুক্তি সম্পাদন করি। চুক্তি মতে আমরা ২য় পক্ষ মামুনুল ইসলামকে ২২,০০,০০০/- (বাইশ লক্ষ) টাকা যৌথ ব্যবসার জন্য নগদ প্রদান করি। মামুনুল ইসলাম সার্জিক্যাল আইটেম ব্যবসায়ী। আমাদের মোট বিনিয়োগের আনুপাতিক হারে মামুনুল ইসলাম তার নামীয় ইসলামী ব্যাংকের চেক আমরা প্রাপ্ত হই। শর্ত মতে আমরা ২য় পক্ষ প্রতি এক লক্ষ টাকার বিপরিতে লভ্যাংশ বাবদ প্রতি মাসে ৪,৫০০/- টাকা প্রাপ্য যা প্রতি মাসের ১-১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ শর্ত বিদ্যমান। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় অনেক বিলম্বে আমরা প্রথম তিন মাসের মুনাফা বাবদ যে অর্থ পেয়েছি তা পেতে প্রথম বছর পার হয়ে যায়। এমতবস্থায় আমরা আমাদের বিনিয়োগ ফেরত চাইলে, ফেরত দেওয়ার বাহানায় নানা ফন্দি ফিকির করে ২ বছর সময় অতিবাহিত করে। উক্ত সময়ে মামুনুল ইসলাম তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “কক্সবাজার সার্জিক্যাল মার্ট” নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চুপিসারে বন্ধ করে নিজ বাসস্থান থেকে ব্যবসা পরিচালনা করিতেছে। যেহেতু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাই, আমরা বিনিয়োগ ফেরত চাওয়ার জন্য নানা ভাবে যোগাযোগ ও চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করলে সে নানান বাহানা শুরু করে। আমরা নিরুপায় হয়ে চুক্তি মোতাবেক আইনের আশ্রয় নিয়ে যার যার চেক ডিজ-অনার করে চেক মূলে মামলা করি। মামুনুল ইসলাম যখন জানতে পারে, আমরা একে একে প্রায় সবাই মামলা করতেছি তখন সে কিছু রাজনৈতিক ছাত্র নেতা ও পুলিশকে অর্থের বিনিময়ে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে নানান ভাবে আমাদের হয়রানি শুরু করে। যার প্রমান স্বরুপ বিগত ১৮/০৯/২০২১ইং তারিখে ৮০৯২নং স্বারক মূলে, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নন এফআইআর প্রসিকিউশন নং-১৪৫/২১, তারিখ-১৭/০৯/২০২১ইং, ধারা- ৫০৬ (২) পেনাল কোড-১৮৬০ কক্সবাজার মডেল থানার সাধারণ ডায়েরী নং-৫৫০, তারিখ-১০/০৬/২০২১ইং একটি অভিযোগ দায়ের করে। যা সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন শুধুমাত্র আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের মূল বিষয় বস্তু আমরা ২য় পক্ষ মামুনুল ইসলামকে ভাড়াটে মাস্তান পাঠিয়ে প্রান-নাশের হুমকি প্রদান করি এবং আমাদের অজান্তে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ অফিসার আমাদের বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেছেন যাহা আমরা অবগত নয়। আগামী ২১/১০/২০২১ইং তারিখে আমাদের আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য সমন জারি করা হয়। সমন পাওয়ার পরে আমরা জানতে পারি, তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের কোন বক্তব্য না শুনে আমাদেরই বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। যা এক কথায় আমাদেরকে বিনিয়োগ ফেরত না দিয়ে উল্টো হয়রানির বাস্তব প্রমাণ।

ভুক্তভোগী এডভোকেট রাশেদুল করিম বলেন, কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার মাজেদুল আমাদের সবাইকে মামুনুল ইসলামের একটা অভিযোগের বিষয়ে ডাকে। আমরা গত ২০ জুলাইয়ের দিকে সদর মডেল থানায় যায়, সেখানে আমাদের বক্তব্য শুনে আমাদেরকে মিমাংসার জন্য একটা তারিখ দেয়। ঐ তারিখে আমরা যোগাযোগ করলে মাজেদুল সাহেব আমাদেরকে বলেন আমি অনেক চেষ্টা করেছি আমার ধারা সম্ভব নয়, সে আমার মোবাইল রিচিব করে না এবং আপনারা আইনি প্রক্রিয়া নেন। একটা অভিযোগ দায়ের করুন আমি মিমাংসা করে দেবো। আমরা অভিযোগ ওসি সাহেবকে দিই বললে মাজেদ সাহেব বলেন, অভিযোগটা আমাকে দেন যেহেতু আমি আপনাদেরকে ডেকেছি অভিযোগের ভিত্তিতে আমি মিমাংসা করে দেবো। আমরা অভিযোগ দেওয়ার পরে রিচিব কপি চাইলে তিনি বলেন রিচিব কপি লাগবে না আমার উপর বিশ্বাস রাখুন। পরে যখন আমরা কোন খোঁজখবর পাচ্ছি না তাই গত ১৭/০৯/২০২১ইং সন্ধ্যা বেলায় সদর মডেল থানায় গিয়ে দেখতে পারি আমরা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি সেই মামুনুল ইসলাম ও আরেকজন ব্যক্তিসহ মাজেদ সাহেবের টেবিলে বসে হাসিঠাট্টা করতেছে। আমরা এইসব দেখে অবাক হয়ে নেমে পড়ি, একটু পরে দেখি তারা তিনজন থানার সামনে হোটেল আল-গণিতে গিয়ে নাস্তা করতেছে। আমরা তা অবাক দৃষ্টিতে দেখে চলে যায়। অথচ মাজেদ সাহেব কিছুদিন আগে আমাদেরকে বলেছিল ওনার মোবাইল ফোন বন্ধ, ওনি বাড়িতে নাই আমার ধারা সম্ভব নয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে আরও বলেন, মামুনুল ইসলাম পুলিশের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এই কারণে পুলিশ তার পক্ষপাতদৃষ্ট হয়ে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

সাত ভুক্তভোগীদের এক নারী হাসিনা আক্তার তাদের টাকা ফেরত চেয়ে মামুনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আকুতি জানিয়েছেন।

এছাড়াও পান বাজার রোডের নূর-সার্জিক্যাল, কসকো-মেডিকেল, হাসান মেডিকেল এবং আনোয়ার হুসেন, পিতা-উকিল আহমদ এর সাথেও অর্থ লেনদেন করে একই ভাবে প্রতারণার খবর আমাদের কাছে আসে।

ফাইল

রিপ্লাই করুণ

Please enter your comment!
Please enter your name here