হোম আইন-আদালত জেল সুপার নেছার আলমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, কক্সবাজার কারাগারে বাড়ছে বন্দী সেবা

জেল সুপার নেছার আলমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, কক্সবাজার কারাগারে বাড়ছে বন্দী সেবা

16
0

ফরিদুল মোস্তফা খান :
বদলে গেছে কক্সবাজার জেলা কারাগারের চিত্র। আগের চেয়ে বেড়েছে সেবার মান।
পাশাপাশি করোনাকালীন সময়েও কারা অভ্যন্তরের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে বেজায় খুশি কারাবন্দিরা। বিশেষ করে বর্তমান জেল সুপারের সুদক্ষ পরিচালনায় কক্সবাজার জেলা কারাগার এখন বাংলাদেশের মডেল কারাগার হিসেবে বাস্তবিক দৃষ্টান্ত। এমনটাই জানালেন সদ্য জামিনে মুক্ত
বেশ কয়েকজন কারাবন্দি।
তাদের মতে, বর্তমান জেল সুপার মোঃ নেছার আলমের যোগ্য নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা কারাগার বাংলাদেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
“রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এ শ্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে ভেতরে বাহিরে কর্মরতরা একাগ্রচিত্তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডেফুটি জেলার মনির হোসেন ও কারাগারের স্বার্থ রক্ষা করে জনসাধারণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিরলসভাবে।
মোঃ নেছার আলম জেল সুপার হিসেবে যোগদান করার পর থেকে বিধি বিধান অনুসরণ করেই কারাগার পরিচালিত হচ্ছে।
বিধি মোতাবেক প্রাপ্য সকল সুবিধা বন্দিদের সমানভাবে দেয়া হচ্ছে। সেখানে টাকার বিনিময়ে আলাদা কোন সুবিধা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। বিশেষ করে জেল সুপারের নেতৃত্বে কারাগারে শান্তি-শৃংখলা সৃষ্টি, কারা মনিটরিং, অসুস্থ বন্দিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, কারা ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক তদারকি, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, পয়: নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সর্বোপরি মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ পৌঁছে দিতে কাজ করছেন কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
। সততায় অবিচল থেকে মডেল কারাগারে রুপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছেন জেল সুপার মোঃ নেছার আলম।
এদিকে বর্তমানে কারাগারে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ২ জন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন। এসব চিকিৎসক প্রতিদিন রোগিদের দেখেন এবং চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে। সেখান থেকে প্রকৃত অসুস্থ রোগিদের কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। এদিকে সদ্য কারামুক্ত চেইন্দা পাহাড়তলী এলাকার নুরুল হুদা ও হাবিবুর রহমান জানান, তারা একটি মামলায় বেশ কিছুদিন কারান্তরিন ছিল। বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার।
কারাগারে প্রত্যেক বন্দিদের সমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে কারা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সদ্য কারামুক্ত চকরিয়া গান্ধিপাড়ার দোস্ত মোহাম্মদ ও মাষ্টার হাফেজ আহমদ জানান, কারাগারে উন্নতমানের খাবার দেয়া হয় বন্দিদের। কারা কর্তৃপক্ষ খুব সুন্দরভাবে কারাগারে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।
টেকনাফ নাইট্যং পাড়ার আব্দুর রহমান সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন) তিনি বলেন, আমার দেখা মতে কোন ইয়াবা ব্যবসায়ী বাড়তি কোন সুযোগ-সুবিধা তথা আরাম আয়াশে থাকতে না পারে সেজন্য জেল সুপার সর্বদা সজাগ রয়েছেন। প্রতিদিন তিনি কারাগারের সকল ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং বন্দি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কারণে কারো অসুবিধা হচ্ছে না কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন। শুধু তাই নয় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যেন অনৈতিক কর্মকান্ড করতে না পারে সেজন্য কারারক্ষীদের সচেতন হওয়ার নির্দেশ দেন।
শনিবার দুপুরে জেলা কারাগারে কথা হয় রামুর মন্ডল পাড়ার ছকিনা বেগমের সাথে। তিনি এসেছেন তার কারাবন্দী স্বামীর জন্যই পিসিতে টাকা দিতে। তিনি জানান,করোনার অজুহাতে দীর্ঘ দিন ধরে বন্দীদের সাথে স্বজন দের দেখা স্বাক্ষাত বন্ধ রাখা খুবই অমানবিক।
ডেপুটি জেলার এম. মনির হোসেন বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে কারা বন্দিদের প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারাগারে যাতে কোন অপ্রীতিকর তথা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, এমন কার্যক্রম যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।
জেল সুপার মোঃ নেছার আলম বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারী গুরুত্বপুর্ন প্রতিষ্ঠান। কারাগারে বিগত দীর্ঘ দিন ধরে আমি কর্মরত আছি। কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমার সার্বিক প্রচেষ্টায় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কারাগারের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছি। কারাগারের সেবার মান বাড়িয়েছি। কারাগারে মাদকের প্রবেশ যাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। এখনো অনিয়ম-দুর্নীতির কোন প্রশ্নই আসে না। যদি কারাগারের কোন সদস্য অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দী ধারনক্ষমতা ৮ শ ৩০ জন।
কিন্তু বর্তমানে সেখানে বন্দী রয়েছেন ৪ হাজার ৪১ জন। ধারন ক্ষমতার প্রায় ৫ গুন বেশি বন্দী নিয়ে মানব সেবায় নজির সৃষ্টি করা উক্ত কারাগারে মায়ের সাথে বীনা অপরাধে জেল কাটা শিশুদের রোজ দুইবার তরল দুধ দেওয়া হচ্ছে বলে জানাগেছে।বন্দীদের স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ব্যবহৃত কম্বল পর্যায়ক্রমে ধৌতকরণ এবং বন্দী ওয়ার্ডগুলো ক্লোরিন দিয়ে জীবানমুক্ত ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও অব্যাহত আছে। এছাড়াও কারাভ্যন্তর ও বাহিরের পানির ট্যাংকগুলো গণপূর্ত কর্তৃক পরিষ্কার করা হয়েছে।

রিপ্লাই করুণ

Please enter your comment!
Please enter your name here